সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৮ অপরাহ্ন
কাজের সময় হ্যাং হয়ে যাচ্ছে? ফোন আর কম্পিউটার এখন হবে আগুন গতির
অনলাইন ডেস্ক
অনেক দিন ধরে কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন ব্যবহার করলে গতি কমে যাওয়াটা একেবারেই স্বাভাবিক। দরকারের সময় একটার পর একটা অ্যাপ বা ফাইল লোড হতে দেরি করলে বিরক্তি চরমে ওঠে। কেউ কেউ রেগেমেগে নতুন ডিভাইস কেনার চিন্তা করেন, যা অনেকের জন্য ব্যয়বহুল বা অপ্রয়োজনীয়ও। অথচ কিছু সহজ কৌশল জানলেই পুরোনো ডিভাইস হয়ে উঠতে পারে নতুনের মতো দ্রুতগতি সম্পন্ন। চলুন জেনে নিই স্মার্ট কৌশলগুলো, যেগুলো মেনে চললে কম্পিউটার, ল্যাপটপ কিংবা স্মার্টফোন আবার আগের মতোই কাজ করবে—তাও নতুন কিছু না কিনেই!
কম্পিউটার বা ল্যাপটপের গতি ধীরে হয়ে গেলে সবচেয়ে আগে যা করা উচিত, তা হলো একটি ভালোভাবে ‘রিস্টার্ট’ দেয়া। পুরোনো কৌশল হলেও আজও এটি যথেষ্ট কার্যকর। কারণ এতে র্যাম ফ্রেশ হয়, সিস্টেম ক্যাশ মুছে যায় এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবে অবশ্যই উইন্ডোজের ‘রিস্টার্ট’ অপশন দিয়েই এটি করতে হবে। সরাসরি পাওয়ার বাটন চেপে বন্ধ করা ডিভাইসের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
রিস্টার্টের পরও যদি ডিভাইস ধীরগতিরই থাকে, তাহলে নজর দিন স্টার্টআপ অ্যাপগুলোর দিকে। উইন্ডোজ চালুর সময় কিছু অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়, যা র্যাম ও প্রসেসরে বাড়তি চাপ ফেলে। টাস্ক ম্যানেজারে গিয়ে স্টার্টআপ ট্যাব থেকে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো নিষ্ক্রিয় করুন। তবে অ্যান্টিভাইরাস বা নিরাপত্তা বিষয়ক সফটওয়্যার এসব থেকে বাদ দেবেন না।
পরবর্তী ধাপে নজর দিন হার্ডডিস্ক ক্লিনআপ–এ। অপ্রয়োজনীয় ফাইল ও সফটওয়্যার গুলো হার্ডডিস্কে জায়গা দখল করে রাখে, ফলে সিস্টেম ধীরে কাজ করে। ডিস্ক ক্লিনআপ টুল বা ম্যানুয়ালি অপ্রয়োজনীয় ফাইলগুলো মুছে ফেলে হার্ডডিস্কে গতি ফিরিয়ে আনুন।
এছাড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যার আপডেট রাখা। অনেকেই আপডেট মানেই নতুন ফিচার মনে করেন, কিন্তু আপডেটের মাধ্যমে পুরোনো বাগ বা নিরাপত্তা ত্রুটি ঠিক করা হয়। এতে সিস্টেম আরও নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত হয়ে ওঠে।
স্মার্টফোন ব্যবহার করতে করতে এক সময় দেখা যায়, নতুন কেনার সময়ের সেই গতি আর নেই। এমনকি ভালো ব্র্যান্ডের মডেল হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার গতি কমতে থাকে। কিন্তু চিন্তার কিছু নেই। নিয়মিত রিস্টার্ট করলেই এই সমস্যার একটা বড় অংশ মিটে যায়। ফোন রিস্টার্ট দিলে RAM ক্লিয়ার হয়, অপ্রয়োজনীয় প্রসেস বন্ধ হয়, ফলে গতি বাড়ে।
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো মুছে ফেলা একটি কার্যকর উপায়। অনেক অ্যাপ কাজ না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে ডেটা ব্যবহার করে এবং স্টোরেজ দখল করে রাখে। আবার কিছু অ্যাপ ক্যাশ হিসেবে জমিয়ে রাখে অপ্রয়োজনীয় তথ্য, যা ডিভাইস ধীর করে তোলে।
তাই ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ রিফ্রেশ (iOS) এবং ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা (Android) বন্ধ করে দিন। এতে র্যামের চাপ কমবে এবং ফোন স্বস্তিতে কাজ করবে।
সবশেষে, অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ্লিকেশন আপডেট রাখাটা এখানে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্মার্টফোনে আপডেট মানেই শুধু নতুন ফিচার নয়, বরং পারফরম্যান্স বুস্ট ও নিরাপত্তা উন্নয়নও।
কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন—যে ডিভাইসই হোক না কেন, গতি কমে যাওয়া মানেই নতুন কেনার প্রয়োজন নেই। কিছু সহজ টিপস মেনে চললেই পুরোনো ডিভাইস হয়ে উঠবে দারুণ গতিশীল। প্রযুক্তি ব্যবহারে স্মার্ট হোন, অপ্রয়োজনীয় খরচ নয়—সঠিক যত্নেই মেলে টেকনোলজির পূর্ণ সুবিধা।